🟢 কোরআন অনুসারে পৃথিবীর সৃষ্টি
🌍 Creation of the Earth According to the Qur'an
📘 ভূমিকা | Introduction
পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে মানুষ চিরকালই ভাবিত। বিজ্ঞানের আধুনিক যুগে যেমন 'বিগ ব্যাং' (Big Bang) একটি স্বীকৃত তত্ত্ব, ঠিক তেমনি পবিত্র কোরআনেও রয়েছে অনেক আয়াত যা পৃথিবী, আকাশ এবং জীবের সৃষ্টির ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আয়াতগুলোর অনেক কিছুই আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে মিল খুঁজে পায়।
📖 ছয় দিনে সৃষ্টি | Creation in Six Days
إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍ“নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন...”(সূরা আল-আ‘রাফ ৭:৫৪)
কোরআনের ‘ছয় দিন’ বিষয়টি মানুষের সময় ধারণার সঙ্গে এক নয়। এটি হতে পারে মহাকালের একটি রূপ, যেটি আল্লাহর জ্ঞানে বহুগুণ বিস্তৃত।
🌌 আকাশ ও পৃথিবী একত্রে ছিল | Unified Heavens and Earth
أَنَّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًۭا فَفَتَقْنَـٰهُمَا“আকাশ ও পৃথিবী একত্র ছিল, পরে আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম।”(সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৩০)
এই আয়াতটি বিজ্ঞানীদের ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বের সঙ্গে চমৎকারভাবে মিলে যায়, যেখানে বলা হয় পুরো মহাবিশ্ব এক বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত ছিল এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রসারিত হয়।
🌍 পৃথিবী বিস্তার পেয়েছে | Earth Was Spread Out
وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَا“এবং পরে তিনি পৃথিবীকে বিছিয়ে দিয়েছেন।”(সূরা আন-নাযিয়াত ৭৯:৩০)
‘দাহা’ শব্দের অর্থ হলো বিস্তার এবং গোলাকার করা। এই শব্দটি ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবী ছিল একসময় পিণ্ডের মতো, পরবর্তীতে বিস্তৃত ও বাসযোগ্য করে তোলা হয়।
🏔️ পর্বত, নদী ও পথ | Mountains, Rivers, and Paths
وَأَلْقَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٟسِىَ... وَأَنْهَـٰرًۭا وَسُبُلًۭا“তিনি পৃথিবীতে পর্বত স্থাপন করেছেন, নদী ও পথ সৃষ্টি করেছেন...”(সূরা আন-নাহল ১৬:১৫)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, কোরআন শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক নয়, ভৌগোলিক সত্যকেও ছুঁয়ে যায়।
🌱 উদ্ভিদের সৃষ্টি | Creation of Plants
فَأَخْرَجْنَا بِهِۦ نَبَاتَ كُلِّ شَىْءٍۢ“আমি পানির মাধ্যমে সকল প্রকার উদ্ভিদ উদ্গত করি।”(সূরা আল-আন‘আম ৬:৯৯)
জল ছাড়া প্রাণ সম্ভব নয় — এই বাস্তবতাকেই কোরআন হাজার বছর আগেই ব্যাখ্যা করেছে।
🧬 মানুষের সৃষ্টি | Creation of Humans
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ مِن سُلَـٰلَةٍۢ مِّن طِينٍۢ“আমি মানুষকে মৃত্তিকার সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।”(সূরা আল-মু’মিনুন ২৩:১২)
وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِى“আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকলাম।”(সূরা সাদ ৩৮:৭২)
মানবজাতির দেহগত ও আত্মিক সৃষ্টি দুটি পৃথক স্তর — যা আধুনিক জীববিজ্ঞানের সঙ্গে মিল রেখে আত্মার অস্তিত্বকেও তুলে ধরে।
🌌 মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ | Expansion of the Universe
وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ“নিশ্চয়ই আমি একে সম্প্রসারিত করছি।”(সূরা আদ-ধারিয়াত ৫১:৪৭)
১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী এডউইন হাবল যখন বললেন মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, তখন তা ছিল বৈপ্লবিক। অথচ কোরআনে তা ১৪০০ বছর আগে বলা হয়েছিল!
🤲 উপসংহার | Conclusion
পবিত্র কোরআনে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সৃষ্টির ব্যাখ্যা শুধু বিশ্বাসের জন্য নয়, বরং চিন্তা ও গবেষণার একটি দিকনির্দেশনা। এই আয়াতগুলো মানুষকে শুধু ঈমানদারই করে না, বরং কৌতূহলীও করে তোলে — যেন সে অন্বেষণ করে আল্লাহর অপার কুদরত।

0 Comments